hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৪৩

অধ্যায়- ৪ : তাওবা করার উপকারিতা

আল্লাহ তাওবাকারীদের গোনাহ ক্ষমা করেন :

وَالَّذِيْنَ عَمِلُوا السَّيِّئَاتِ ثُمَّ تَابُوْا مِنْ ۢبَعْدِهَا وَاٰمَنُوْاۤ اِنَّ رَبَّكَ مِنْ ۢبَعْدِهَا لَغَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ

যারা পাপকাজ করে, অতঃপর তাওবা করে এবং ঈমান আনয়ন করে, তাদের ব্যাপারে তোমার প্রতিপালক বড়ই ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা আ‘রাফ- ১৫৩)

আল্লাহ তাদের গোনাহ নেকী দ্বারা বদলে দেন :

اِلَّا مَنْ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَاُولٰٓئِكَ يُبَدِّلُ اللهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍؕ وَكَانَ اللهُ غَفُوْرًا رَّحِيْمًا

তবে তারা নয়, যারা তাওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে। আল্লাহ তাদের পাপকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা ফুরক্বান- ৭০)

ব্যাখ্যা : যখন তারা তাওবা করবে তখন ইতোপূর্বে তারা যে সমস্ত খারাপ কাজ করত, আল্লাহ তার জায়গায় তাদেরকে সৎকাজ করার সুযোগ দেবেন। ফলে এসব সৎকাজ তাদের অসৎকাজের জায়গাগুলো দখল করে নেবে। আর তাওবার ফলে তাদের আমলনামা থেকে কেবল অপরাধসমূহ কেটে দেয়া হবে না, বরং এর পরিবর্তে প্রত্যেকের আমলনামায় সমপরিমাণ নেকীও লেখা হবে। যতবারই বান্দা নিজের পূর্ববর্তী জীবনের খারাপ কাজগুলো স্মরণ করে লজ্জিত হবে এবং নিজের প্রতিপালকের কাছে তাওবা করতে থাকবে, ততবারই তার আমলনামায় সমপরিমাণ নেকী লিখে দেয়া হবে। কারণ ভুলের জন্য লজ্জিত হওয়া ও ক্ষমা চাওয়াই একটি নেকীর কাজ। এভাবে তার আমলনামায় পরবর্তী নেকীসমূহ পূর্বের সমস্ত পাপের জায়গা দখল করে নেবে। ফলে সে কেবল শাস্তি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং উল্টো তাকে পুরস্কৃতও করা হবে।

আল্লাহ তাদেরকে আযাব থেকে মুক্তি দেবেন :

اِلَّا الَّذِيْنَ تَابُوْا وَاَصْلَحُوْا وَاعْتَصَمُوْا بِاللهِ وَاَخْلَصُوْا دِيْنَهُمْ لِلّٰهِ فَاُولٰٓئِكَ مَعَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَسَوْفَ يُؤْتِ اللهُ الْمُؤْمِنِيْنَ اَجْرًا عَظِيْمًا

কিন্তু যারা তাওবা করে নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয়, আল্লাহর রশি শক্ত করে ধরে রাখে এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজেদের দ্বীনে একনিষ্ঠ থাকে, তারা মুমিনদের সঙ্গে থাকবে। অচিরেই আল্লাহ মুমিনদেরকে মহাপুরস্কারে ভূষিত করবেন। (সূরা নিসা- ১৪৬)

পাপ থেকে ফিরে আসলে আল্লাহ আযাব দেয়া থেকে ফিরে আসেন :

فَمَنْ تَابَ مِنْ ۢبَعْدِ ظُلْمِهٖ وَاَصْلَحَ فَاِنَّ اللهَ يَتُوْبُ عَلَيْهِ اِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ

সুতরাং যে অত্যাচার করার পর তাওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে নেয়, নিশ্চয় আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা মায়েদা- ৩৯)

তাওবাকারীরা সফল হবে :

فَاَمَّا مَنْ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَعَسٰۤى اَنْ يَّكُوْنَ مِنَ الْمُفْلِحِيْنَ

যে ব্যক্তি তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আশা করা যায় সে সাফল্য অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরা ক্বাসাস- ৬৭)

তাওবাকারীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে :

مَنْ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَاُولٰٓئِكَ يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُوْنَ شَيْئًا

যারা তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি কোন যুলুম করা হবে না। (সূরা মারইয়াম- ৬০)