১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৪৭
অধ্যায়- ৩ : আল্লাহ যাদেরকে হেদায়াত করেন না
যারা কাফির:
وَاللهُ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الْكَافِرِيْنَ
আর আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না। (সূরা বাক্বারা- ২৬৪)
اِنَّ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا ثُمَّ كَفَرُوْا ثُمَّ اٰمَنُوْا ثُمَّ كَفَرُوْا ثُمَّ ازْدَادُوْا كُفْرًا لَّمْ يَكُنِ اللهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ سَبِيْلًا
নিশ্চয় যারা ঈমান আনে, অতঃপর কুফরী করে, আবার ঈমান আনে, আবার কুফরী করে, অতঃপর তাদের কুফরী প্রবৃত্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে, আল্লাহ তাদেরকে কিছুতেই ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে কখনো পথও দেখাবেন না। (সূরা নিসা- ১৩৭)
যারা আল্লাহর আয়াতকে বিশ্বাস করে না :
اِنَّ الَّذِيْنَ لَا يُؤْمِنُوْنَ بِاٰيَاتِ اللهِ لَا يَهْدِيْهِمُ اللهُ وَلَهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ
নিশ্চয় যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না, আল্লাহ তাদেরকে হেদায়াত দান করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে মর্মান্তিক শাস্তি। (সূরা নাহল- ১০৪)
যারা ঈমান আনার পর আবার কুফরী করে :
كَيْفَ يَهْدِى اللهُ قَوْمًا كَفَرُوْا بَعْدَ اِيْمَانِهِمْ وَشَهِدُوْاۤ اَنَّ الرَّسُوْلَ حَقٌّ وَّجَآءَهُمُ الْبَيِّنَاتُؕ وَاللهُ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الظَّالِمِيْنَ
এমন জাতিকে আল্লাহ কীভাবে হেদায়াত করবেন যারা ঈমান আনার পর আবার কুফরীতে লিপ্ত হয়, অথচ তারা এ সাক্ষ্যও দেয় যে, রাসূল সত্য। তাছাড়া তিনি (রাসূল) তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শনাবলিও নিয়ে এসেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হেদায়াত দান করেন না। (সূরা আলে ইমরান- ৮৬)
যারা ফাসিক :
اِنَّ اللّٰهَ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الْفَاسِقِيْنَ
নিশ্চয় আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে হেদায়াত দান করেন না। (সূরা মুনাফিকূন- ৬)
وَاللهُ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الْفَاسِقِيْنَ
আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে হেদায়াত দান করেন না। (সূরা সাফ- ৫)
যারা যালিম:
وَاللهُ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الظَّالِمِيْنَ
আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না। (সূরা সাফ- ৭)
যারা সীমালঙ্ঘন করে:
اِنَّ اللهَ لَا يَهْدِيْ مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ كَذَّابٌ
আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারী ও মিথ্যাবাদীদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না। (সূরা মু’মিন- ২৮)
যারা মিথ্যুক :
اِنَّ اللهَ لَا يَهْدِيْ مَنْ هُوَ كَاذِبٌ كَفَّارٌ
আল্লাহ মিথ্যাবাদী ও কাফিরদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না। (সূরা যুমার- ৩)
যারা গোমরাহীর অন্ধকারে ডুবে থাকে :
وَمَاۤ اَنْتَ بِهَادِ الْعُمْيِ عَنْ ضَلَالَتِهِمْؕ اِنْ تُسْمِعُ اِلَّا مَنْ يُّؤْمِنُ بِاٰيَاتِنَا فَهُمْ مُّسْلِمُوْنَ
আপনি অন্ধদেরকে তাদের ভ্রষ্টতা থেকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারবেন না। আপনি তো কেবল তাদেরকেই শুনাতে পারবেন, যারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, অতঃপর তারা আনুগত্যও করে। (সূরা রূম- ৫৩)
ব্যাখ্যা : যাদেরকে আলো দেখানো হয় এবং সত্য ও সরল পথের দিকে আহবান জানানো হয়; কিন্তু তারা সে আহবানে কর্ণপাত না করে নিজেদের বাঁকা পথেই চলতে থাকে, তাদের জন্য এটিই আল্লাহর বিধান যে, অন্ধকারই তাদের কাছে ভালো মনে হতে থাকবে। তারা অন্ধের মতো পথ হাতড়ে চলা এবং এখানে সেখানে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাওয়া পছন্দ করবে। সবধরনের অন্যায়, অত্যাচার, অসৎ ও অশ্লীলতামূলক কাজে আনন্দ উপভোগ করবে।
যারা সন্তান হত্যা করে:
قَدْ خَسِرَ الَّذِيْنَ قَتَلُوْاۤ اَوْلَادَهُمْ سَفَهًا ۢبِغَيْرِ عِلْمٍ وَّحَرَّمُوْا مَا رَزَقَهُمُ اللهُ افْتِرَآءً عَلَى اللهِؕ قَدْ ضَلُّوْا وَمَا كَانُوْا مُهْتَدِيْنَ
যারা নির্বুদ্ধিতার দরুন অজ্ঞতাবশত নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করে এবং আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা রচনা করার জন্য আল্লাহ প্রদত্ত জীবিকাকে হারাম করে নেয়, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবশ্যই তারা বিপথগামী হয়েছে, আর তারা সৎপথপ্রাপ্তও ছিল না। (সূরা আন‘আম- ১৪১)
যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে :
قَدْ خَسِرَ الَّذِيْنَ كَذَّبُوْا بِلِقَآءِ اللهِ وَمَا كَانُوْا مُهْتَدِيْنَ
যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; আর তারা সৎপথপ্রাপ্তও ছিল না। (সূরা ইউনুস- ৪৫)
যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে :
فَاِنْ لَّمْ يَسْتَجِيْبُوْا لَكَ فَاعْلَمْ اَنَّمَا يَتَّبِعُوْنَ اَهْوَآءَهُمْؕ وَمَنْ اَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِّنَ اللهِؕ اِنَّ اللهَ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الظَّالِمِيْنَ
তারা যদি তোমার আহবানে সাড়া না দেয়, তাহলে জানবে যে, তারা কেবল নিজেদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথনির্দেশকে অগ্রাহ্য করে নিজ খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে, তার চেয়ে অধিক বিভ্রান্ত আর কে হতে পারে? নিশ্চয় আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না। (সূরা ক্বাসাস- ৫০)
ব্যাখ্যা : যে নিজেই আল্লাহর দিকে ধাবিত হয় না এবং তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাকে জোর করে সত্য ও সঠিক পথ দেখানো আল্লাহর রীতি নয়। এ ধরনের লোকেরা সত্য ও সঠিক পথ পরিত্যাগ করে বিভ্রান্তের মতো যেসব ভুল পথে ঘুরে বেড়াতে চায় আল্লাহ তাদেরকে সেসব পথে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ দেন। একজন সত্য সন্ধানী লোকের জন্য যেসব মাধ্যম সত্যপথ লাভের ব্যাপারে সহায়ক হয়, একজন অসত্য ও ভ্রান্ত পথ প্রত্যাশী ব্যক্তির জন্য সেগুলো বিভ্রান্তি ও গোমরাহীর কারণ হয়।
কোন মূর্তি বা দেবতা মানুষকে সৎপথ দেখাতে পারে না :
قُلْ هَلْ مِنْ شُرَكَآئِكُمْ مَّنْ يَّهْدِيْۤ اِلَى الْحَقِّ قُلِ اللهُ يَهْدِيْ لِلْحَقِّؕ اَفَمَنْ يَّهْدِيْۤ اِلَى الْحَقِّؕ اَحَقُّ اَنْ يُّتَّبَعَ اَمَّنْ لَّا يَهِدِّيْۤ اِلَّاۤ اَنْ يُّهْدٰىۚ فَمَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُوْنَ
বলো, তোমরা যাদেরকে শরীক কর তাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে সৎপথ প্রদর্শন করে? বলো, আল্লাহই সৎপথ প্রদর্শন করেন। আর যিনি সৎপথ প্রদর্শন করেন তিনিই তো আনুগত্যের অধিক হকদার, নাকি ঐ ব্যক্তি (বেশি হকদার) যাকে পথ না দেখালে কোন পথ দেখতে পায় না? তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা কীভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাক? (সূরা ইউনুস- ৩৫)
অনেকে বিপথগামী হয়েও নিজেকে সৎপন্থী মনে করে :
اِنَّهُمُ اتَّخَذُوا الشَّيَاطِيْنَ اَوْلِيَآءَ مِنْ دُوْنِ اللهِ وَيَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ مُّهْتَدُوْنَ
তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে; তবুও তারা মনে করে যে, তারাই সৎপথপ্রাপ্ত। (সূরা আ‘রাফ- ৩০)
وَاللهُ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الْكَافِرِيْنَ
আর আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না। (সূরা বাক্বারা- ২৬৪)
اِنَّ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا ثُمَّ كَفَرُوْا ثُمَّ اٰمَنُوْا ثُمَّ كَفَرُوْا ثُمَّ ازْدَادُوْا كُفْرًا لَّمْ يَكُنِ اللهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ سَبِيْلًا
নিশ্চয় যারা ঈমান আনে, অতঃপর কুফরী করে, আবার ঈমান আনে, আবার কুফরী করে, অতঃপর তাদের কুফরী প্রবৃত্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে, আল্লাহ তাদেরকে কিছুতেই ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে কখনো পথও দেখাবেন না। (সূরা নিসা- ১৩৭)
যারা আল্লাহর আয়াতকে বিশ্বাস করে না :
اِنَّ الَّذِيْنَ لَا يُؤْمِنُوْنَ بِاٰيَاتِ اللهِ لَا يَهْدِيْهِمُ اللهُ وَلَهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ
নিশ্চয় যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না, আল্লাহ তাদেরকে হেদায়াত দান করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে মর্মান্তিক শাস্তি। (সূরা নাহল- ১০৪)
যারা ঈমান আনার পর আবার কুফরী করে :
كَيْفَ يَهْدِى اللهُ قَوْمًا كَفَرُوْا بَعْدَ اِيْمَانِهِمْ وَشَهِدُوْاۤ اَنَّ الرَّسُوْلَ حَقٌّ وَّجَآءَهُمُ الْبَيِّنَاتُؕ وَاللهُ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الظَّالِمِيْنَ
এমন জাতিকে আল্লাহ কীভাবে হেদায়াত করবেন যারা ঈমান আনার পর আবার কুফরীতে লিপ্ত হয়, অথচ তারা এ সাক্ষ্যও দেয় যে, রাসূল সত্য। তাছাড়া তিনি (রাসূল) তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শনাবলিও নিয়ে এসেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হেদায়াত দান করেন না। (সূরা আলে ইমরান- ৮৬)
যারা ফাসিক :
اِنَّ اللّٰهَ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الْفَاسِقِيْنَ
নিশ্চয় আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে হেদায়াত দান করেন না। (সূরা মুনাফিকূন- ৬)
وَاللهُ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الْفَاسِقِيْنَ
আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে হেদায়াত দান করেন না। (সূরা সাফ- ৫)
যারা যালিম:
وَاللهُ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الظَّالِمِيْنَ
আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না। (সূরা সাফ- ৭)
যারা সীমালঙ্ঘন করে:
اِنَّ اللهَ لَا يَهْدِيْ مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ كَذَّابٌ
আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারী ও মিথ্যাবাদীদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না। (সূরা মু’মিন- ২৮)
যারা মিথ্যুক :
اِنَّ اللهَ لَا يَهْدِيْ مَنْ هُوَ كَاذِبٌ كَفَّارٌ
আল্লাহ মিথ্যাবাদী ও কাফিরদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না। (সূরা যুমার- ৩)
যারা গোমরাহীর অন্ধকারে ডুবে থাকে :
وَمَاۤ اَنْتَ بِهَادِ الْعُمْيِ عَنْ ضَلَالَتِهِمْؕ اِنْ تُسْمِعُ اِلَّا مَنْ يُّؤْمِنُ بِاٰيَاتِنَا فَهُمْ مُّسْلِمُوْنَ
আপনি অন্ধদেরকে তাদের ভ্রষ্টতা থেকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারবেন না। আপনি তো কেবল তাদেরকেই শুনাতে পারবেন, যারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, অতঃপর তারা আনুগত্যও করে। (সূরা রূম- ৫৩)
ব্যাখ্যা : যাদেরকে আলো দেখানো হয় এবং সত্য ও সরল পথের দিকে আহবান জানানো হয়; কিন্তু তারা সে আহবানে কর্ণপাত না করে নিজেদের বাঁকা পথেই চলতে থাকে, তাদের জন্য এটিই আল্লাহর বিধান যে, অন্ধকারই তাদের কাছে ভালো মনে হতে থাকবে। তারা অন্ধের মতো পথ হাতড়ে চলা এবং এখানে সেখানে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাওয়া পছন্দ করবে। সবধরনের অন্যায়, অত্যাচার, অসৎ ও অশ্লীলতামূলক কাজে আনন্দ উপভোগ করবে।
যারা সন্তান হত্যা করে:
قَدْ خَسِرَ الَّذِيْنَ قَتَلُوْاۤ اَوْلَادَهُمْ سَفَهًا ۢبِغَيْرِ عِلْمٍ وَّحَرَّمُوْا مَا رَزَقَهُمُ اللهُ افْتِرَآءً عَلَى اللهِؕ قَدْ ضَلُّوْا وَمَا كَانُوْا مُهْتَدِيْنَ
যারা নির্বুদ্ধিতার দরুন অজ্ঞতাবশত নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করে এবং আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা রচনা করার জন্য আল্লাহ প্রদত্ত জীবিকাকে হারাম করে নেয়, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবশ্যই তারা বিপথগামী হয়েছে, আর তারা সৎপথপ্রাপ্তও ছিল না। (সূরা আন‘আম- ১৪১)
যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে :
قَدْ خَسِرَ الَّذِيْنَ كَذَّبُوْا بِلِقَآءِ اللهِ وَمَا كَانُوْا مُهْتَدِيْنَ
যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; আর তারা সৎপথপ্রাপ্তও ছিল না। (সূরা ইউনুস- ৪৫)
যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে :
فَاِنْ لَّمْ يَسْتَجِيْبُوْا لَكَ فَاعْلَمْ اَنَّمَا يَتَّبِعُوْنَ اَهْوَآءَهُمْؕ وَمَنْ اَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِّنَ اللهِؕ اِنَّ اللهَ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الظَّالِمِيْنَ
তারা যদি তোমার আহবানে সাড়া না দেয়, তাহলে জানবে যে, তারা কেবল নিজেদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথনির্দেশকে অগ্রাহ্য করে নিজ খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে, তার চেয়ে অধিক বিভ্রান্ত আর কে হতে পারে? নিশ্চয় আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না। (সূরা ক্বাসাস- ৫০)
ব্যাখ্যা : যে নিজেই আল্লাহর দিকে ধাবিত হয় না এবং তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাকে জোর করে সত্য ও সঠিক পথ দেখানো আল্লাহর রীতি নয়। এ ধরনের লোকেরা সত্য ও সঠিক পথ পরিত্যাগ করে বিভ্রান্তের মতো যেসব ভুল পথে ঘুরে বেড়াতে চায় আল্লাহ তাদেরকে সেসব পথে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ দেন। একজন সত্য সন্ধানী লোকের জন্য যেসব মাধ্যম সত্যপথ লাভের ব্যাপারে সহায়ক হয়, একজন অসত্য ও ভ্রান্ত পথ প্রত্যাশী ব্যক্তির জন্য সেগুলো বিভ্রান্তি ও গোমরাহীর কারণ হয়।
কোন মূর্তি বা দেবতা মানুষকে সৎপথ দেখাতে পারে না :
قُلْ هَلْ مِنْ شُرَكَآئِكُمْ مَّنْ يَّهْدِيْۤ اِلَى الْحَقِّ قُلِ اللهُ يَهْدِيْ لِلْحَقِّؕ اَفَمَنْ يَّهْدِيْۤ اِلَى الْحَقِّؕ اَحَقُّ اَنْ يُّتَّبَعَ اَمَّنْ لَّا يَهِدِّيْۤ اِلَّاۤ اَنْ يُّهْدٰىۚ فَمَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُوْنَ
বলো, তোমরা যাদেরকে শরীক কর তাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে সৎপথ প্রদর্শন করে? বলো, আল্লাহই সৎপথ প্রদর্শন করেন। আর যিনি সৎপথ প্রদর্শন করেন তিনিই তো আনুগত্যের অধিক হকদার, নাকি ঐ ব্যক্তি (বেশি হকদার) যাকে পথ না দেখালে কোন পথ দেখতে পায় না? তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা কীভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাক? (সূরা ইউনুস- ৩৫)
অনেকে বিপথগামী হয়েও নিজেকে সৎপন্থী মনে করে :
اِنَّهُمُ اتَّخَذُوا الشَّيَاطِيْنَ اَوْلِيَآءَ مِنْ دُوْنِ اللهِ وَيَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ مُّهْتَدُوْنَ
তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে; তবুও তারা মনে করে যে, তারাই সৎপথপ্রাপ্ত। (সূরা আ‘রাফ- ৩০)