১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৩১
অধ্যায়- ১৪ : ইয়াহুদিদের পরিণাম
তাদের উপর কিছু খাদ্য হারাম করে দেয়া হয়:
فَبِظُلْمٍ مِّنَ الَّذِيْنَ هَادُوْا حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَاتٍ اُحِلَّتْ لَهُمْ وَبِصَدِّهِمْ عَنْ سَبِيْلِ اللهِ كَثِيْرًا
ইয়াহুদিদের বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘনমূলক আচরণের কারণে এমন অনেক পবিত্র জিনিসও আমি তাদের জন্য হারাম করে দিয়েছিলাম, যা তাদের জন্য আগে হালাল ছিল। এটা এজন্য যে, এরা অনেক মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিরত রেখেছে। (সূরা নিসা- ১৬০)
وَعَلَى الَّذِيْنَ هَادُوْا حَرَّمْنَا كُلَّ ذِيْ ظُفُرٍۚ وَمِنَ الْبَقَرِ وَالْغَنَمِ حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ شُحُوْمَهُمَاۤ اِلَّا مَا حَمَلَتْ ظُهُوْرُهُمَاۤ اَوِ الْحَوَايَاۤ اَوْ مَا اخْتَلَطَ بِعَظْمٍؕ ذٰلِكَ جَزَيْنَاهُمْ بِبَغْيِهِمْؗ وَاِنَّا لَصَادِقُوْنَ
আমি ইয়াহুদিদের জন্য নখযুক্ত সমস্ত পশু হারাম করে দিয়েছিলাম এবং গরু ও ছাগলের চর্বিও তাদের জন্য হারাম করে দিয়েছিলাম, তবে এগুলোর পৃষ্ঠের অথবা অন্ত্রের কিংবা অস্থিসংলগ্ন চর্বি ব্যতীত। তাদের অবাধ্যতার কারণে তাদেরকে এ প্রতিফল দিয়েছিলাম; নিশ্চয় আমি সত্যবাদী। (সূরা আন‘আম- ১৪৬)
ব্যাখ্যা : বনী ইসরাঈলদের উপর এমনসব প্রাণী হারাম করে দেয়া হয়, যেগুলোর নখ রয়েছে। তাছাড়া গরু ও ছাগলের চর্বিও তাদের উপর হারাম করে দেয়া হয়। এগুলো তাদের জন্য এক প্রকার শাস্তি। কেননা কোন ব্যক্তি বা জনসমষ্টির জীবন যাপনের ক্ষেত্র সংকীর্ণ করে দেয়াটা মূলত তার জন্য একটি শাস্তি ছাড়া আর কিছুই নয়।
তাদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে মর্মান্তিক শাস্তি :
وَاَخْذِهِمُ الرِّبَا وَقَدْ نُهُوْا عَنْهُ وَاَكْلِهِمْ اَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِؕ وَاَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِيْنَ مِنْهُمْ عَذَابًا اَلِيْمًا
তারা সুদ গ্রহণ করত, অথচ তাদেরকে তা থেকে সুস্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছিল এবং তারা অন্যের ধনসম্পদ অন্যায়ভাবে (ধোঁকা ও প্রতারণার মাধ্যমে) গ্রাস করে নিত। সুতরাং আমি এসব কাফিরদের জন্য মর্মান্তিক শাস্তি নির্দিষ্ট করে রেখেছি। (সূরা নিসা- ১৬১)
তারা দুনিয়া ও আখিরাতে শাস্তির উপযুক্ত :
وَلَوْلَاۤ اَنْ كَتَبَ اللهُ عَلَيْهِمُ الْجَلَآءَ لَعَذَّبَهُمْ فِى الدُّنْيَاؕ وَلَهُمْ فِى الْاٰخِرَةِ عَذَابُ النَّارِ ‐ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ شَآقُّوا اللهَ وَرَسُوْلَهٗۚ وَمَنْ يُّشَآقِّ اللهَ فَاِنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ
আল্লাহ তাদের নির্বাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করলেও তাদেরকে দুনিয়াতেই (অন্য) শাস্তি প্রদান করতেন; আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আযাব। এটা এজন্য যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল; আর যে-ই আল্লাহর সাথে বিরুদ্ধাচরণ করবে, তবে (সে জেনে রাখুক) নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি দানে খুবই কঠোর। (সূরা হাশর- ৩, ৪)
তাদের পরিণাম খুবই খারাপ হয়েছে :
قُلْ هَلْ اُنَبِّئُكُمْ بِشَرٍّ مِّنْ ذٰلِكَ مَثُوْبَةً عِنْدَ اللهِؕ مَنْ لَّعَنَهُ اللهُ وَغَضِبَ عَلَيْهِ وَجَعَلَ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيْرَ وَعَبَدَ الطَّاغُوْتَؕ اُولٰٓئِكَ شَرٌّ مَّكَانًا وَّاَضَلُّ عَنْ سَوَآءِ السَّبِيْلِ
বলো, আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়ে নিকৃষ্ট পরিণামের সংবাদ দেব, যা আল্লাহর নিকট আছে? যাকে আল্লাহ লানত করেছেন, যার উপর তিনি রাগান্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে বানর ও কতককে শূকরে রূপান্তরিত করেছেন এবং যারা তাগুতের ইবাদাত করে। এরাই মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং সরল পথ হতে সর্বাধিক বিচ্যুত। (সূরা মায়েদা- ৬০)
তাদের প্রতি আল্লাহর লানত :
اُولٰٓئِكَ جَزَآؤُهُمْ اَنَّ عَلَيْهِمْ لَعْنَةَ اللهِ وَالْمَلَآئِكَةِ وَالنَّاسِ اَجْمَعِيْنَ
তাদের পরিণতি হচ্ছে, তাদের উপর আল্লাহ, ফেরেশতা এবং সকল মানুষের লানত। (সূরা আলে ইমরান- ৮৭)
দুনিয়ায় তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা :
لَهُمْ فِى الدُّنْيَا خِزْيٌ وَّلَهُمْ فِى الْاٰخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيْمٌ
দুনিয়ায় তাদের জন্য রয়েছে অপমান এবং পরকালে রয়েছে মহাশাস্তি। (সূরা মায়েদা- ৪১)
তারা আল্লাহর গযবের শিকার হয়েছে :
فَبَآءُوْا بِغَضَبٍ عَلٰى غَضَبٍؕ وَلِلْكَافِرِيْنَ عَذَابٌ مُّهِيْنٌ
অতঃপর তারা ক্ষোভের উপর ক্ষোভে পতিত হয়েছে; আর কাফিরদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।
(সূরা বাক্বারা- ৯০)
তারা কিয়ামত পর্যন্ত দুনিয়ার শাস্তি পেতে থাকবে :
وَاِذْ تَاَذَّنَ رَبُّكَ لَيَبْعَثَنَّ عَلَيْهِمْ اِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ يَّسُوْمُهُمْ سُوْٓءَ الْعَذَابِؕ اِنَّ رَبَّكَ لَسَرِيْعُ الْعِقَابِۚ وَاِنَّهٗ لَغَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
স্মরণ করো, যখন তোমার প্রতিপালক ঘোষণা করেন যে, তিনি কিয়ামত পর্যন্ত তাদের উপর এমন লোকদেরকে প্রেরণ করবেন, যারা তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিতে থাকবে। নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক শাস্তিদানে খুবই তৎপর, (অপরদিকে) তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা আ‘রাফ- ১৬৭)
তারা জাহান্নামে যাবে :
اِنَّ الَّذِيْنَ يَكْفُرُوْنَ بِاٰيَاتِ اللهِ وَيَقْتُلُوْنَ النَّبِيِّيْنَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَّيَقْتُلُوْنَ الَّذِيْنَ يَاْمُرُوْنَ بِالْقِسْطِ مِنَ النَّاسِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ اَلِيْمٍ
নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং অন্যায়ভাবে নবীদেরকে হত্যা করেছে, আরো হত্যা করেছে তাদেরকে যারা ইনসাফের নির্দেশ দেয়। তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ শুনিয়ে দাও। (সূরা আলে ইমরান- ২১)
তাদের দৃষ্টান্ত গাধার সাথে :
مَثَلُ الَّذِيْنَ حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوْهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ اَسْفَارًاؕ بِئْسَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِيْنَ كَذَّبُوْا بِاٰيَاتِ اللهِؕ وَاللهُ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الظَّالِمِيْنَ
যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল অথচ তারা তা বহন করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত কিতাবসমূহ বহনকারী গাধার ন্যায়। কতই না নিকৃষ্ট সেই সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আর আল্লাহ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না। (সূরা জুমু‘আ- ৫)
তারা মুসলিমদের চরম শত্রু :
لَتَجِدَنَّ اَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِيْنَ اٰمَنُوا الْيَهُوْدَ وَالَّذِيْنَ اَشْرَكُوْاۚ وَلَتَجِدَنَّ اَقْرَبَهُمْ مَّوَدَّةً لِّلَّذِيْنَ اٰمَنُوا الَّذِيْنَ قَالُوْاۤ اِنَّا نَصَارٰىؕ ذٰلِكَ بِاَنَّ مِنْهُمْ قِسِّيْسِيْنَ وَرُهْبَانًا وَّاَنَّهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُوْنَ
অবশ্য মানুষের মধ্যে মুমিনদের প্রতি শত্রুতায় ইয়াহুদি ও মুশরিকদেরকেই সর্বাধিক উগ্র হিসেবে দেখতে পাবে এবং যারা বলে ‘আমরা খ্রিস্টান’ (তাদেরকেও উগ্র হিসেবে দেখতে পাবে)। তবে মানুষের মধ্যে তাদেরকেই (খ্রিস্টানদেরকেই) তুমি মুমিনদের নিকটতর বন্ধু হিসেবে দেখতে পাবে, কেননা তাদের মধ্যে অনেক আলিম ও সংসারবিরাগী আছে, যারা অহংকার করে না। (সূরা মায়েদা- ৮২)
তাদেরকে বন্ধু বানানো যাবে না :
يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُوْدَ وَالنَّصَارٰۤى اَوْلِيَآءَۘ بَعْضُهُمْ اَوْلِيَآءُ بَعْضٍؕ وَمَنْ يَّتَوَلَّهُمْ مِّنْكُمْ فَاِنَّهٗ مِنْهُمْؕ اِنَّ اللهَ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الظَّالِمِيْنَ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। কেননা, তারা নিজেরাই একে অপরের বন্ধু। (এরপরও) তোমাদের মধ্য থেকে যারা তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, সে তাদেরই একজন বলে গণ্য হবে। নিশ্চয় আল্লাহ যালিমদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
(সূরা মায়েদা- ৫১)
فَبِظُلْمٍ مِّنَ الَّذِيْنَ هَادُوْا حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَاتٍ اُحِلَّتْ لَهُمْ وَبِصَدِّهِمْ عَنْ سَبِيْلِ اللهِ كَثِيْرًا
ইয়াহুদিদের বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘনমূলক আচরণের কারণে এমন অনেক পবিত্র জিনিসও আমি তাদের জন্য হারাম করে দিয়েছিলাম, যা তাদের জন্য আগে হালাল ছিল। এটা এজন্য যে, এরা অনেক মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিরত রেখেছে। (সূরা নিসা- ১৬০)
وَعَلَى الَّذِيْنَ هَادُوْا حَرَّمْنَا كُلَّ ذِيْ ظُفُرٍۚ وَمِنَ الْبَقَرِ وَالْغَنَمِ حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ شُحُوْمَهُمَاۤ اِلَّا مَا حَمَلَتْ ظُهُوْرُهُمَاۤ اَوِ الْحَوَايَاۤ اَوْ مَا اخْتَلَطَ بِعَظْمٍؕ ذٰلِكَ جَزَيْنَاهُمْ بِبَغْيِهِمْؗ وَاِنَّا لَصَادِقُوْنَ
আমি ইয়াহুদিদের জন্য নখযুক্ত সমস্ত পশু হারাম করে দিয়েছিলাম এবং গরু ও ছাগলের চর্বিও তাদের জন্য হারাম করে দিয়েছিলাম, তবে এগুলোর পৃষ্ঠের অথবা অন্ত্রের কিংবা অস্থিসংলগ্ন চর্বি ব্যতীত। তাদের অবাধ্যতার কারণে তাদেরকে এ প্রতিফল দিয়েছিলাম; নিশ্চয় আমি সত্যবাদী। (সূরা আন‘আম- ১৪৬)
ব্যাখ্যা : বনী ইসরাঈলদের উপর এমনসব প্রাণী হারাম করে দেয়া হয়, যেগুলোর নখ রয়েছে। তাছাড়া গরু ও ছাগলের চর্বিও তাদের উপর হারাম করে দেয়া হয়। এগুলো তাদের জন্য এক প্রকার শাস্তি। কেননা কোন ব্যক্তি বা জনসমষ্টির জীবন যাপনের ক্ষেত্র সংকীর্ণ করে দেয়াটা মূলত তার জন্য একটি শাস্তি ছাড়া আর কিছুই নয়।
তাদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে মর্মান্তিক শাস্তি :
وَاَخْذِهِمُ الرِّبَا وَقَدْ نُهُوْا عَنْهُ وَاَكْلِهِمْ اَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِؕ وَاَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِيْنَ مِنْهُمْ عَذَابًا اَلِيْمًا
তারা সুদ গ্রহণ করত, অথচ তাদেরকে তা থেকে সুস্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছিল এবং তারা অন্যের ধনসম্পদ অন্যায়ভাবে (ধোঁকা ও প্রতারণার মাধ্যমে) গ্রাস করে নিত। সুতরাং আমি এসব কাফিরদের জন্য মর্মান্তিক শাস্তি নির্দিষ্ট করে রেখেছি। (সূরা নিসা- ১৬১)
তারা দুনিয়া ও আখিরাতে শাস্তির উপযুক্ত :
وَلَوْلَاۤ اَنْ كَتَبَ اللهُ عَلَيْهِمُ الْجَلَآءَ لَعَذَّبَهُمْ فِى الدُّنْيَاؕ وَلَهُمْ فِى الْاٰخِرَةِ عَذَابُ النَّارِ ‐ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ شَآقُّوا اللهَ وَرَسُوْلَهٗۚ وَمَنْ يُّشَآقِّ اللهَ فَاِنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ
আল্লাহ তাদের নির্বাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করলেও তাদেরকে দুনিয়াতেই (অন্য) শাস্তি প্রদান করতেন; আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আযাব। এটা এজন্য যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল; আর যে-ই আল্লাহর সাথে বিরুদ্ধাচরণ করবে, তবে (সে জেনে রাখুক) নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি দানে খুবই কঠোর। (সূরা হাশর- ৩, ৪)
তাদের পরিণাম খুবই খারাপ হয়েছে :
قُلْ هَلْ اُنَبِّئُكُمْ بِشَرٍّ مِّنْ ذٰلِكَ مَثُوْبَةً عِنْدَ اللهِؕ مَنْ لَّعَنَهُ اللهُ وَغَضِبَ عَلَيْهِ وَجَعَلَ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيْرَ وَعَبَدَ الطَّاغُوْتَؕ اُولٰٓئِكَ شَرٌّ مَّكَانًا وَّاَضَلُّ عَنْ سَوَآءِ السَّبِيْلِ
বলো, আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়ে নিকৃষ্ট পরিণামের সংবাদ দেব, যা আল্লাহর নিকট আছে? যাকে আল্লাহ লানত করেছেন, যার উপর তিনি রাগান্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে বানর ও কতককে শূকরে রূপান্তরিত করেছেন এবং যারা তাগুতের ইবাদাত করে। এরাই মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং সরল পথ হতে সর্বাধিক বিচ্যুত। (সূরা মায়েদা- ৬০)
তাদের প্রতি আল্লাহর লানত :
اُولٰٓئِكَ جَزَآؤُهُمْ اَنَّ عَلَيْهِمْ لَعْنَةَ اللهِ وَالْمَلَآئِكَةِ وَالنَّاسِ اَجْمَعِيْنَ
তাদের পরিণতি হচ্ছে, তাদের উপর আল্লাহ, ফেরেশতা এবং সকল মানুষের লানত। (সূরা আলে ইমরান- ৮৭)
দুনিয়ায় তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা :
لَهُمْ فِى الدُّنْيَا خِزْيٌ وَّلَهُمْ فِى الْاٰخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيْمٌ
দুনিয়ায় তাদের জন্য রয়েছে অপমান এবং পরকালে রয়েছে মহাশাস্তি। (সূরা মায়েদা- ৪১)
তারা আল্লাহর গযবের শিকার হয়েছে :
فَبَآءُوْا بِغَضَبٍ عَلٰى غَضَبٍؕ وَلِلْكَافِرِيْنَ عَذَابٌ مُّهِيْنٌ
অতঃপর তারা ক্ষোভের উপর ক্ষোভে পতিত হয়েছে; আর কাফিরদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।
(সূরা বাক্বারা- ৯০)
তারা কিয়ামত পর্যন্ত দুনিয়ার শাস্তি পেতে থাকবে :
وَاِذْ تَاَذَّنَ رَبُّكَ لَيَبْعَثَنَّ عَلَيْهِمْ اِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ يَّسُوْمُهُمْ سُوْٓءَ الْعَذَابِؕ اِنَّ رَبَّكَ لَسَرِيْعُ الْعِقَابِۚ وَاِنَّهٗ لَغَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
স্মরণ করো, যখন তোমার প্রতিপালক ঘোষণা করেন যে, তিনি কিয়ামত পর্যন্ত তাদের উপর এমন লোকদেরকে প্রেরণ করবেন, যারা তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিতে থাকবে। নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক শাস্তিদানে খুবই তৎপর, (অপরদিকে) তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা আ‘রাফ- ১৬৭)
তারা জাহান্নামে যাবে :
اِنَّ الَّذِيْنَ يَكْفُرُوْنَ بِاٰيَاتِ اللهِ وَيَقْتُلُوْنَ النَّبِيِّيْنَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَّيَقْتُلُوْنَ الَّذِيْنَ يَاْمُرُوْنَ بِالْقِسْطِ مِنَ النَّاسِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ اَلِيْمٍ
নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং অন্যায়ভাবে নবীদেরকে হত্যা করেছে, আরো হত্যা করেছে তাদেরকে যারা ইনসাফের নির্দেশ দেয়। তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ শুনিয়ে দাও। (সূরা আলে ইমরান- ২১)
তাদের দৃষ্টান্ত গাধার সাথে :
مَثَلُ الَّذِيْنَ حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوْهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ اَسْفَارًاؕ بِئْسَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِيْنَ كَذَّبُوْا بِاٰيَاتِ اللهِؕ وَاللهُ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الظَّالِمِيْنَ
যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল অথচ তারা তা বহন করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত কিতাবসমূহ বহনকারী গাধার ন্যায়। কতই না নিকৃষ্ট সেই সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আর আল্লাহ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না। (সূরা জুমু‘আ- ৫)
তারা মুসলিমদের চরম শত্রু :
لَتَجِدَنَّ اَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِيْنَ اٰمَنُوا الْيَهُوْدَ وَالَّذِيْنَ اَشْرَكُوْاۚ وَلَتَجِدَنَّ اَقْرَبَهُمْ مَّوَدَّةً لِّلَّذِيْنَ اٰمَنُوا الَّذِيْنَ قَالُوْاۤ اِنَّا نَصَارٰىؕ ذٰلِكَ بِاَنَّ مِنْهُمْ قِسِّيْسِيْنَ وَرُهْبَانًا وَّاَنَّهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُوْنَ
অবশ্য মানুষের মধ্যে মুমিনদের প্রতি শত্রুতায় ইয়াহুদি ও মুশরিকদেরকেই সর্বাধিক উগ্র হিসেবে দেখতে পাবে এবং যারা বলে ‘আমরা খ্রিস্টান’ (তাদেরকেও উগ্র হিসেবে দেখতে পাবে)। তবে মানুষের মধ্যে তাদেরকেই (খ্রিস্টানদেরকেই) তুমি মুমিনদের নিকটতর বন্ধু হিসেবে দেখতে পাবে, কেননা তাদের মধ্যে অনেক আলিম ও সংসারবিরাগী আছে, যারা অহংকার করে না। (সূরা মায়েদা- ৮২)
তাদেরকে বন্ধু বানানো যাবে না :
يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُوْدَ وَالنَّصَارٰۤى اَوْلِيَآءَۘ بَعْضُهُمْ اَوْلِيَآءُ بَعْضٍؕ وَمَنْ يَّتَوَلَّهُمْ مِّنْكُمْ فَاِنَّهٗ مِنْهُمْؕ اِنَّ اللهَ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الظَّالِمِيْنَ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। কেননা, তারা নিজেরাই একে অপরের বন্ধু। (এরপরও) তোমাদের মধ্য থেকে যারা তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, সে তাদেরই একজন বলে গণ্য হবে। নিশ্চয় আল্লাহ যালিমদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
(সূরা মায়েদা- ৫১)