hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২৮

অধ্যায়- ৩ : ধৈর্যধারণের ফলাফল

ধৈর্যধারণ করা মুমিনের উত্তম বৈশিষ্ট্য :

اَلصَّابِرِيْنَ وَالصَّادِقِيْنَ وَالْقَانِتِيْنَ وَالْمُنْفِقِيْنَ وَالْمُسْتَغْفِرِيْنَ بِالْاَسْحَارِ

তারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, বিনয়ী, দানকারী এবং শেষরাত্রে ক্ষমা প্রার্থনাকারী। (সূরা আলে ইমরান- ১৭)

সবর করা দৃঢ়প্রত্যয়ের কাজ :

وَلَمَنْ صَبَرَ وَغَفَرَ اِنَّ ذٰلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمُوْرِ

যে ধৈর্যধারণ করে এবং ক্ষমা করে দেয়, তা অবশ্যই দৃঢ় সাহসীকতাপূর্ণ কর্মসমূহের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরা শূরা- ৪৩)

ধৈর্যশীলরাই আল্লাহর পথে জীবন উৎসর্গ করতে পারে :

قَالَ يَاۤ اَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُؗ سَتَجِدُنِيْۤ اِنْ شَآءَ اللهُ مِنَ الصَّابِرِيْنَ

সে বলল, হে আমার বাবা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা পূর্ণ করুন। ইন্শা-আল্লাহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবেই পাবেন। (সূরা সাফ্ফাত- ১০২)

ধৈর্যধারণ করা শত্রুর উপর বিজয় লাভের মাধ্যম :

وَاِنْ تَصْبِرُوْا وَتَتَّقُوْا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا

যদি তোমরা ধৈর্যধারণ কর এবং তাক্বওয়া অবলম্বন কর, তাহলে তাদের চক্রান্ত তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। (সূরা আলে ইমরান- ১২০)

ধৈর্যধারণ করা আল্লাহর সাহায্য লাভের মাধ্যম :

وَاسْتَعِيْنُوْا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِؕ وَاِنَّهَا لَكَبِيْرَةٌ اِلَّا عَلَى الْخَاشِعِيْنَ

আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয় এ কাজ খুবই কঠিন, তবে বিনয়ীগণ ব্যতীত। (সূরা বাক্বারা- ৪৫)

يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اسْتَعِيْنُوْا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِؕ اِنَّ اللهَ مَعَ الصَّابِرِيْنَ

হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য কামনা করো। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন। (সূরা বাক্বারা- ১৫৩)

আল্লাহ ধৈর্যশীলদেরকে ভালোবাসেন :

وَاللهُ يُحِبُّ الصَّابِرِيْنَ

আল্লাহ ধৈর্যশীলদেরকে ভালোবাসেন। (সূরা আলে ইমরান- ১৪৬)

ধৈর্যশীলদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ :

وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوْعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْاَمْوَالِ وَالْاَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِؕ وَبَشِّرِ الصَّابِرِيْنَ

নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করব ভয়, ক্ষুধা এবং ধনসম্পদ, প্রাণ ও শস্যের ক্ষতি- এসব দ্বারা। সুতরাং তুমি (এসব বিপদাপদে) ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ প্রদান করো। (সূরা বাক্বারা- ১৫৫)

আল্লাহ ধৈর্যশীলদেরকে অগণিত পুরস্কার দান করবেন :

اِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُوْنَ اَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ

নিশ্চয় ধৈর্যশীলদেরকে তাদের পুরস্কার অপরিমিতভাবে দেয়া হবে। (সূরা যুমার- ১০)

ধৈর্যশীলদের পুরস্কার নষ্ট করা হবে না :

وَاصْبِرْ فَاِنَّ اللهَ لَا يُضِيْعُ اَجْرَ الْمُحْسِنِيْنَ

তুমি ধৈর্যধারণ করো; নিশ্চয় আললাহ সৎকর্মপরায়ণদের শ্রমফল নষ্ট করেন না। (সূরা হুদ- ১১৫)

ধৈর্যশীলরা জান্নাতবাসী হবে :

اُولٰٓئِكَ يُجْزَوْنَ الْغُرْفَةَ بِمَا صَبَرُوْا وَيُلَقَّوْنَ فِيْهَا تَحِيَّةً وَّسَلَامًا

তাদেরকে প্রতিদান দেয়া হবে জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষ, যেহেতু তারা ছিল ধৈর্যশীল। সেখানে তাদেরকে অভ্যর্থনা করা হবে অভিবাদন ও সালাম সহকারে। (সূরা ফুরক্বান- ৭৫)

ব্যাখ্যা : ধৈর্যধারণকারী বলতে এমন লোকদেরকে বুঝায়, যারা সবধরনের লোভ-লালসা ও কামনা-বাসনার বিপরীতে সততার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। এ দুনিয়ায় সত্য ও ন্যায়ের পথ অবলম্বন করলে যেসব ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়, তারা সেগুলোকে সহ্য করে। দুনিয়ায় অবৈধ পন্থা অবলম্বন করলে যেসব লাভ পাওয়া যেতে পারে, তারা সেগুলোকে দূরে নিক্ষেপ করে। তারা ভালো কাজের সুফল লাভ করার জন্য সে সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে প্রস্তুত থাকে, যে সময়টি পার্থিব জীবনের অবসানের পর অন্য জগতে আসবে।