১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৮৭
অধ্যায়- ১১ : অহংকার করা
কেউ ধনসম্পদের কারণে অহংকার করে :
اِنَّ قَارُوْنَ كَانَ مِنْ قَوْمِ مُوْسٰى فَبَغٰى عَلَيْهِمْ وَاٰتَيْنَاهُ مِنَ الْكُنُوْزِ مَاۤ اِنَّ مَفَاتِحَهٗ لَتَنُوْٓءُ بِالْعُصْبَةِ اُولِى الْقُوَّةِۗ اِذْ قَالَ لَهٗ قَوْمُهٗ لَا تَفْرَحْ اِنَّ اللهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِيْنَ
নিশ্চয় কারূন ছিল মূসার সম্প্রদায়ভুক্ত, কিন্তু সে তাদের প্রতি ঔদ্বত্যভাব প্রকাশ করেছিল। আমি তাকে দান করেছিলাম এমন ধনভান্ডার, যার চাবিগুলো বহন করা একদল শক্তিশালী লোকের পক্ষেও কষ্টসাধ্য ছিল। স্মরণ করো, যখন তার সম্প্রদায় তাকে বলেছিল, অহংকার করো না; নিশ্চয় আল্লাহ অহংকারীদেরকে পছন্দ করেন না। (সূরা ক্বাসাস- ৭৬)
কেউ বিদ্যার কারণে গর্ব করে :
فَلَمَّا جَآءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ فَرِحُوْا بِمَا عِنْدَهُمْ مِّنَ الْعِلْمِ
তাদের নিকট যখন নিদর্শনাবলিসহ তাদের রাসূলগণ আসত, তখন তারা নিজেদের জ্ঞানের অহংকার করত। (সূরা মু’মিন- ৮৩)
কেউ বিপদ সরে গেলে অহংকারী হয়ে যায় :
وَلَئِنْ اَذَقْنَاهُ نَعْمَآءَ بَعْدَ ضَرَّآءَ مَسَّتْهُ لَيَقُوْلَنَّ ذَهَبَ السَّيِّئَاتُ عَنِّيْۤ اِنَّهٗ لَفَرِحٌ فَخُوْرٌ
যদি দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করার পর আমি তাকে সুখ-সম্পদ আস্বাদন করাই তখন সে অবশ্যই বলবে, আমার বিপদাপদ কেটে গেছে; নিশ্চয় সে উৎফুল্ল ও অহংকারী। (সূরা হুদ- ১০)
আল্লাহ গর্ব ও অহংকার করতে নিষেধ করেছেন :
وَلَا تَمْشِ فِى الْاَرْضِ مَرَحًاۚ اِنَّكَ لَنْ تَخْرِقَ الْاَرْضَ وَلَنْ تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُوْلًا
ভূপৃষ্ঠে অহংকারী হয়ে বিচরণ করো না; তুমি তো কখনই (পায়ের ভরে) ভূপৃষ্ঠ বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং (উচ্চতায়) কখনই পর্বত সমান হতে পারবে না। (সূরা বনী ইসরাঈল- ৩৭)
وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِى الْاَرْضِ مَرَحًاؕ اِنَّ اللهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُوْرٍ
তুমি অহংকারবশত মানুষকে অবহেলা করো না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে বিচরণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক ও অহংকারীকে ভালোবাসেন না। (সূরা লুক্বমান- ১৮)
ব্যাখ্যা : অর্থাৎ ক্ষমতালোভী ও অহংকারীদের মতো আচরণ করো না। এ নির্দেশটিও ব্যক্তিগত কর্মপদ্ধতি ও জাতীয় আচরণ উভয়ের উপর সমানভাবে প্রযোজ্য। এ নির্দেশের কারণে মদিনায় যে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তার শাসকবৃন্দ ও গভর্নরদের জীবনে ক্ষমতার লোভ বা অহংকারের লেশমাত্রও ছিল না। এমনকি যুদ্ধরত অবস্থায়ও কখনো তাদের মুখ থেকে দম্ভ ও অহংকারের কোন কথাই বের হতো না। তাদের ওঠাবসা, চালচলন, পোশাক-পরিচ্ছদ, ঘরবাড়ি, সওয়ারী ও সাধারণ আচার-আচরণে নম্রতা ও কোমলতার ছাপ স্পষ্ট দেখা যেত। যখন তারা বিজয়ীর বেশে কোন শহরে প্রবেশ করতেন, তখনও অহংকার প্রদর্শন করতেন না।
অহংকার কোন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না :
اِنَّمَا يُؤْمِنُ بِاٰيَاتِنَا الَّذِيْنَ اِذَا ذُكِّرُوْا بِهَا خَرُّوْا سُجَّدًا وَّسَبَّحُوْا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُوْنَ
কেবল তারাই আমার নিদর্শনগুলোর প্রতি ঈমান রাখে, যাদেরকে আমার আয়াতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং স্বীয় প্রতিপালকের প্রশংসা, পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে; আর তারা অহংকার করে না। (সূরা সাজদা- ১৫)
ফেরেশতারা অহংকার করে না :
وَلِلّٰهِ يَسْجُدُ مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَمَا فِى الْاَرْضِ مِنْ دَآبَّةٍ وَّالْمَلَآئِكَةُ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُوْنَ
আকাশমন্ডলীতে যা কিছু আছে এবং পৃথিবীতে যত জীবজন্তু আছে সকলেই আল্লাহকে সিজদা করে এবং ফেরেশতাগণও; আর তারা অহংকার করে না। (সূরা নাহল- ৪৯)
বড়ত্ব ও অহংকার একমাত্র আল্লাহর জন্যই মানায় :
فَلِلّٰهِ الْحَمْدُ رَبِّ السَّمَاوَاتِ وَرَبِّ الْاَرْضِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ ‐ وَلَهُ الْكِبْرِيَآءُ فِى السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ
প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি আকাশমন্ডলীর প্রতিপালক, পৃথিবীর প্রতিপালক এবং জগতসমূহের প্রতিপালক। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে তাঁরই বড়ত্ব বিদ্যমান; তিনি মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাবান। (সূরা জাসিয়া- ৩৬, ৩৭)
আল্লাহ অহংকারীদেরকে পছন্দ করেন না :
اِنَّهٗ لَا يُحِبُّ الْمُسْتَكْبِرِيْنَ
নিশ্চয় তিনি অহংকারীদেরকে পছন্দ করেন না। (সূরা নাহল- ২৩)
وَاللهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُوْرٍ
আল্লাহ প্রত্যেক ঔদ্ধত্য ও অহংকারীদেরকে পছন্দ করেন না। (সূরা হাদীদ- ২৩)
অহংকারীরা নিদর্শন দেখে উপকৃত হয় না :
سَاَصْرِفُ عَنْ اٰيَاتِيَ الَّذِيْنَ يَتَكَبَّرُوْنَ فِى الْاَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ
যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে দম্ভ করে বেড়ায়, তাদের দৃষ্টি আমার নিদর্শন হতে ফিরিয়ে দেব। (সূরা আ‘রাফ- ১৪৬)
ব্যাখ্যা : ‘অহংকার করে বেড়ানো’ বাক্যটি কুরআন মাজীদে এমন এক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা থেকে বুঝা যায় যে, বান্দা নিজেকে আল্লাহর আনুগত্য করার ঊর্ধ্বে স্থান দেয়, আল্লাহর আদেশ-নিষেধের কোন ধার ধারে না। এ ধরনের বান্দা হয়ে থাকার কোন অধিকার মানুষের নেই। তাই এখানে বলা হয়েছে, কোন প্রকার অধিকার ছাড়াই যারা পৃথিবীতে বড়াই করে বেড়ায়; প্রাকৃতিক আইন অনুযায়ী এ ধরনের লোকেরা কোন শিক্ষাপ্রদ ঘটনা অনুধাবন করতে এবং কোন শিক্ষণীয় বিষয় থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারে না।
আল্লাহ অহংকারীদের অন্তরে মোহর মেরে দেন :
كَذٰلِكَ يَطْبَعُ اللهُ عَلٰى كُلِّ قَلْبِ مُتَكَبِّرٍ جَبَّارٍ
এভাবে আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী ও স্বৈরাচারী ব্যক্তির হৃদয়ে মোহর মেরে দেন। (সূরা মু’মিন- ৩৫)
ইবলিস অহংকার করে বিতাড়িত হয়েছিল :
وَاِذْ قُلْنَا لِلْمَلَآئِكَةِ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوْاۤ اِلَّاۤ اِبْلِيْسَؕ اَبٰى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِيْنَ
আর আমি যখন ফেরেশতাদেরকে বলেছিলাম, তোমরা আদমকে সিজদা করো, তখন ইবলিস ব্যতীত সকলে সিজদা করেছিল। সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। (সূরা বাক্বারা- ৩৪)
অহংকারীরা জান্নাতে যেতে পারবে না :
اِنَّ الَّذِيْنَ كَذَّبُوْا بِاٰيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوْا عَنْهَا لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ اَبْوَابُ السَّمَآءِ وَلَا يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ حَتّٰى يَلِجَ الْجَمَلُ فِيْ سَمِّ الْخِيَاطِ وَكَذٰلِكَ نَجْزِى الْمُجْرِمِيْنَ
যারা আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করে এবং সে সম্বন্ধে অহংকার করে, তাদের জন্য আকাশের দ্বার উন্মুক্ত করা হবে না। তারা জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না, যতক্ষণ না সূঁচের ছিদ্রপথে উষ্ট্র প্রবেশ করে। আর এভাবে আমি অপরাধীদেরকে প্রতিফল দান করব। (সূরা আ‘রাফ- ৪০)
অহংকারীদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম :
اَلَيْسَ فِيْ جَهَنَّمَ مَثْوًى لِّلْمُتَكَبِّرِيْنَ
জাহান্নাম কি অহংকারীদের আবাসস্থল নয়? (সূরা যুমার- ৬০)
قِيْلَ ادْخُلُوْاۤ اَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِيْنَ فِيْهَاۚ فَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِّرِيْنَ
তাদেরকে বলা হবে, স্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য জাহান্নামের দ্বারসমূহে প্রবেশ করো। অহংকারীদের আবাসস্থল কতই না নিকৃষ্ট। (সূরা যুমার- ৭২)
اِنَّ قَارُوْنَ كَانَ مِنْ قَوْمِ مُوْسٰى فَبَغٰى عَلَيْهِمْ وَاٰتَيْنَاهُ مِنَ الْكُنُوْزِ مَاۤ اِنَّ مَفَاتِحَهٗ لَتَنُوْٓءُ بِالْعُصْبَةِ اُولِى الْقُوَّةِۗ اِذْ قَالَ لَهٗ قَوْمُهٗ لَا تَفْرَحْ اِنَّ اللهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِيْنَ
নিশ্চয় কারূন ছিল মূসার সম্প্রদায়ভুক্ত, কিন্তু সে তাদের প্রতি ঔদ্বত্যভাব প্রকাশ করেছিল। আমি তাকে দান করেছিলাম এমন ধনভান্ডার, যার চাবিগুলো বহন করা একদল শক্তিশালী লোকের পক্ষেও কষ্টসাধ্য ছিল। স্মরণ করো, যখন তার সম্প্রদায় তাকে বলেছিল, অহংকার করো না; নিশ্চয় আল্লাহ অহংকারীদেরকে পছন্দ করেন না। (সূরা ক্বাসাস- ৭৬)
কেউ বিদ্যার কারণে গর্ব করে :
فَلَمَّا جَآءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ فَرِحُوْا بِمَا عِنْدَهُمْ مِّنَ الْعِلْمِ
তাদের নিকট যখন নিদর্শনাবলিসহ তাদের রাসূলগণ আসত, তখন তারা নিজেদের জ্ঞানের অহংকার করত। (সূরা মু’মিন- ৮৩)
কেউ বিপদ সরে গেলে অহংকারী হয়ে যায় :
وَلَئِنْ اَذَقْنَاهُ نَعْمَآءَ بَعْدَ ضَرَّآءَ مَسَّتْهُ لَيَقُوْلَنَّ ذَهَبَ السَّيِّئَاتُ عَنِّيْۤ اِنَّهٗ لَفَرِحٌ فَخُوْرٌ
যদি দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করার পর আমি তাকে সুখ-সম্পদ আস্বাদন করাই তখন সে অবশ্যই বলবে, আমার বিপদাপদ কেটে গেছে; নিশ্চয় সে উৎফুল্ল ও অহংকারী। (সূরা হুদ- ১০)
আল্লাহ গর্ব ও অহংকার করতে নিষেধ করেছেন :
وَلَا تَمْشِ فِى الْاَرْضِ مَرَحًاۚ اِنَّكَ لَنْ تَخْرِقَ الْاَرْضَ وَلَنْ تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُوْلًا
ভূপৃষ্ঠে অহংকারী হয়ে বিচরণ করো না; তুমি তো কখনই (পায়ের ভরে) ভূপৃষ্ঠ বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং (উচ্চতায়) কখনই পর্বত সমান হতে পারবে না। (সূরা বনী ইসরাঈল- ৩৭)
وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِى الْاَرْضِ مَرَحًاؕ اِنَّ اللهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُوْرٍ
তুমি অহংকারবশত মানুষকে অবহেলা করো না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে বিচরণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক ও অহংকারীকে ভালোবাসেন না। (সূরা লুক্বমান- ১৮)
ব্যাখ্যা : অর্থাৎ ক্ষমতালোভী ও অহংকারীদের মতো আচরণ করো না। এ নির্দেশটিও ব্যক্তিগত কর্মপদ্ধতি ও জাতীয় আচরণ উভয়ের উপর সমানভাবে প্রযোজ্য। এ নির্দেশের কারণে মদিনায় যে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তার শাসকবৃন্দ ও গভর্নরদের জীবনে ক্ষমতার লোভ বা অহংকারের লেশমাত্রও ছিল না। এমনকি যুদ্ধরত অবস্থায়ও কখনো তাদের মুখ থেকে দম্ভ ও অহংকারের কোন কথাই বের হতো না। তাদের ওঠাবসা, চালচলন, পোশাক-পরিচ্ছদ, ঘরবাড়ি, সওয়ারী ও সাধারণ আচার-আচরণে নম্রতা ও কোমলতার ছাপ স্পষ্ট দেখা যেত। যখন তারা বিজয়ীর বেশে কোন শহরে প্রবেশ করতেন, তখনও অহংকার প্রদর্শন করতেন না।
অহংকার কোন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না :
اِنَّمَا يُؤْمِنُ بِاٰيَاتِنَا الَّذِيْنَ اِذَا ذُكِّرُوْا بِهَا خَرُّوْا سُجَّدًا وَّسَبَّحُوْا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُوْنَ
কেবল তারাই আমার নিদর্শনগুলোর প্রতি ঈমান রাখে, যাদেরকে আমার আয়াতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং স্বীয় প্রতিপালকের প্রশংসা, পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে; আর তারা অহংকার করে না। (সূরা সাজদা- ১৫)
ফেরেশতারা অহংকার করে না :
وَلِلّٰهِ يَسْجُدُ مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَمَا فِى الْاَرْضِ مِنْ دَآبَّةٍ وَّالْمَلَآئِكَةُ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُوْنَ
আকাশমন্ডলীতে যা কিছু আছে এবং পৃথিবীতে যত জীবজন্তু আছে সকলেই আল্লাহকে সিজদা করে এবং ফেরেশতাগণও; আর তারা অহংকার করে না। (সূরা নাহল- ৪৯)
বড়ত্ব ও অহংকার একমাত্র আল্লাহর জন্যই মানায় :
فَلِلّٰهِ الْحَمْدُ رَبِّ السَّمَاوَاتِ وَرَبِّ الْاَرْضِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ ‐ وَلَهُ الْكِبْرِيَآءُ فِى السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ
প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি আকাশমন্ডলীর প্রতিপালক, পৃথিবীর প্রতিপালক এবং জগতসমূহের প্রতিপালক। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে তাঁরই বড়ত্ব বিদ্যমান; তিনি মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাবান। (সূরা জাসিয়া- ৩৬, ৩৭)
আল্লাহ অহংকারীদেরকে পছন্দ করেন না :
اِنَّهٗ لَا يُحِبُّ الْمُسْتَكْبِرِيْنَ
নিশ্চয় তিনি অহংকারীদেরকে পছন্দ করেন না। (সূরা নাহল- ২৩)
وَاللهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُوْرٍ
আল্লাহ প্রত্যেক ঔদ্ধত্য ও অহংকারীদেরকে পছন্দ করেন না। (সূরা হাদীদ- ২৩)
অহংকারীরা নিদর্শন দেখে উপকৃত হয় না :
سَاَصْرِفُ عَنْ اٰيَاتِيَ الَّذِيْنَ يَتَكَبَّرُوْنَ فِى الْاَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ
যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে দম্ভ করে বেড়ায়, তাদের দৃষ্টি আমার নিদর্শন হতে ফিরিয়ে দেব। (সূরা আ‘রাফ- ১৪৬)
ব্যাখ্যা : ‘অহংকার করে বেড়ানো’ বাক্যটি কুরআন মাজীদে এমন এক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা থেকে বুঝা যায় যে, বান্দা নিজেকে আল্লাহর আনুগত্য করার ঊর্ধ্বে স্থান দেয়, আল্লাহর আদেশ-নিষেধের কোন ধার ধারে না। এ ধরনের বান্দা হয়ে থাকার কোন অধিকার মানুষের নেই। তাই এখানে বলা হয়েছে, কোন প্রকার অধিকার ছাড়াই যারা পৃথিবীতে বড়াই করে বেড়ায়; প্রাকৃতিক আইন অনুযায়ী এ ধরনের লোকেরা কোন শিক্ষাপ্রদ ঘটনা অনুধাবন করতে এবং কোন শিক্ষণীয় বিষয় থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারে না।
আল্লাহ অহংকারীদের অন্তরে মোহর মেরে দেন :
كَذٰلِكَ يَطْبَعُ اللهُ عَلٰى كُلِّ قَلْبِ مُتَكَبِّرٍ جَبَّارٍ
এভাবে আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী ও স্বৈরাচারী ব্যক্তির হৃদয়ে মোহর মেরে দেন। (সূরা মু’মিন- ৩৫)
ইবলিস অহংকার করে বিতাড়িত হয়েছিল :
وَاِذْ قُلْنَا لِلْمَلَآئِكَةِ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوْاۤ اِلَّاۤ اِبْلِيْسَؕ اَبٰى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِيْنَ
আর আমি যখন ফেরেশতাদেরকে বলেছিলাম, তোমরা আদমকে সিজদা করো, তখন ইবলিস ব্যতীত সকলে সিজদা করেছিল। সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। (সূরা বাক্বারা- ৩৪)
অহংকারীরা জান্নাতে যেতে পারবে না :
اِنَّ الَّذِيْنَ كَذَّبُوْا بِاٰيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوْا عَنْهَا لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ اَبْوَابُ السَّمَآءِ وَلَا يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ حَتّٰى يَلِجَ الْجَمَلُ فِيْ سَمِّ الْخِيَاطِ وَكَذٰلِكَ نَجْزِى الْمُجْرِمِيْنَ
যারা আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করে এবং সে সম্বন্ধে অহংকার করে, তাদের জন্য আকাশের দ্বার উন্মুক্ত করা হবে না। তারা জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না, যতক্ষণ না সূঁচের ছিদ্রপথে উষ্ট্র প্রবেশ করে। আর এভাবে আমি অপরাধীদেরকে প্রতিফল দান করব। (সূরা আ‘রাফ- ৪০)
অহংকারীদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম :
اَلَيْسَ فِيْ جَهَنَّمَ مَثْوًى لِّلْمُتَكَبِّرِيْنَ
জাহান্নাম কি অহংকারীদের আবাসস্থল নয়? (সূরা যুমার- ৬০)
قِيْلَ ادْخُلُوْاۤ اَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِيْنَ فِيْهَاۚ فَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِّرِيْنَ
তাদেরকে বলা হবে, স্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য জাহান্নামের দ্বারসমূহে প্রবেশ করো। অহংকারীদের আবাসস্থল কতই না নিকৃষ্ট। (সূরা যুমার- ৭২)